বাগান ফেলে চলে গেলেন ‘বাঞ্ছারাম’, প্রয়াত মনোজ মিত্র

বাগান ফেলে চলে গেলেন ‘বাঞ্ছারাম’, প্রয়াত মনোজ মিত্র
‘বাঞ্ছারাম’ নামটির সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যানুরাগীদের পরিচয় বহুদিনের। সেই কবে থেকে বাগান আঁকড়ে ছিলেন বাঞ্ছারাম। এই ইউটিউব দুনিয়ায়ও বাংলা সিনেমার দর্শক মনকে নাড়া দেয় বাঞ্ছারাম কাপালির হাহাকার। বাঞ্ছারামের সেই ‘সাজানো বাগান’, যেন আজও ঠিক তেমনই সাজানোই রয়েছে। তবে ‘বাঞ্ছারাম’ আর নেই। তাঁকে তাঁর ‘সাজানো বাগান’-এর মায়া ত্যাগ করেতেই হলো। প্রয়াত হলেন নাট্যকার মনোজ মিত্র। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মনোজ মিত্র। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধ্যক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সকালে এই বরেণ্য অভিনেতা মৃত্যুর খবরটি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই সাহিত্যিক অমর মিত্র। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়েন মনোজ মিত্র। কলকাতার সল্টলেকের ক্যালকাটা হার্ট ইনস্টিউটে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় হাসপাতাল জানিয়েছিল, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ঠিকমতো কাজ করছে না। হার্ট পাম্পের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই। ক্রিয়েটিনিনও বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। সোডিয়াম-পটাশিয়ামেরও সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রবীণ অভিনেতার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল, যদিও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা বৃথা গেল! মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেলেন, তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে। তপন সিংহের চলচ্চিত্র ‘বাঞ্ছারামের বাগান’ মনোজ মিত্রকে বাংলা সিনেমায় একজন অমর অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাঁরই লেখা নাটক ‘সাজানো বাগান’ থেকে তৈরি ওই চলচ্চিত্র। অশীতিপর বৃদ্ধ বাঞ্ছারাম তাঁর নিজ হাতে গড়া ফুল-ফলের বাগান নিয়ে পড়ে ছিলেন। নিজের প্রাণের চেয়েও প্রিয় সেই বাগান। মঞ্চে তিনি ওই বাঞ্ছারামের চরিত্রে যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, পর্দায়ও জীবন্ত করেছিলেন বাঞ্ছারামকে। তাঁর অভিনয়জীবনের এক মাইলফলক এই ‘বাঞ্ছারাম’। সব ছাপিয়ে তিনি হয়েছিলেন বাঞ্ছারাম। আজ বাগান ফেলে চলে গেলেন তিনি। মনোজ মিত্রর জন্ম ১৯৩৮ সালের ২২ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার ধূলিহার গ্রামে। শৈশব কেটেছে তাঁর ওই গ্রামেই। ১৯৫০ সালে ১২ বছর বয়সে তিনি চলে যান কলকাতায়। বাবা অশোক কুমার মিত্র স্বাধীনতা–উত্তর বাংলাদেশে ঢাকায় ভারতের দূতাবাসে চাকরি করেছেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতার নাট্যমঞ্চে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। আর ১৯৭৯ সালে প্রথম পা রেখেছিলেন সিনেমায়। অভিনয়ের জন্য পেয়েছিলেন সংগীত নাটক একাডেমি পদকসহ নানা পুরস্কার। ছিলেন কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের অধ্যক্ষ। মনোজ মিত্রর লেখা শতাধিক নাটকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চাকভাঙা মধু’, ‘দর্পণে শরৎশশী’, ‘নরক গুলজার’, ‘সাজানো বাগান’, ‘নৈশভোজ’, ‘চোখে আঙ্গুল দাদা’, ‘কাল বিহঙ্গ’, ‘অশ্বত্থামা’, ‘মেষ ও রাখাল’, ‘অলকানন্দর পুত্রকন্যা’ উল্লেখযোগ্য। মনোজ মিত্র অভিনয় করেছেন ৫৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘৬১ নম্বর গড়পার লেন’, ‘উমা’, ‘প্রেম বাইচান্স’, ‘অমর সাথি’, ‘ভালোবাসি শুধু তোমাকে’, ‘আগুন’, ‘চক্র’, ‘দত্তক’, ‘হিংসা’, ‘আবির্ভাব’ ও ‘তুফান’। কাজ করেছেন সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাও।মনোজ মিত্রর লেখা প্রথম নাটক ‘মৃত্যুর চোখে জল’। লিখেছিলেন ১৯৫৯ সালে। আর ১৯৭২ সালে ‘চাকভাঙা মধু’ নাটকের মধ্য দিয়ে তিনি পর্দার সামনে আসেন। ওই নাটকের নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবতী। মনোজ মিত্রর মঞ্চনাটক, যাত্রা, আকাশবাণীর নাটকে অবাধ বিচরণ ছিল। সূত্র: প্রথম আলো...

আলিফ-লায়লার নগরী বাগদাদের গল্প

আলিফ-লায়লার নগরী বাগদাদের গল্প

বিখ্যাত বাগদাদ নগরীর প্রতিষ্ঠাতা দ্বিতীয় আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মানসুর। বাগদাদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এটিই ছিল সব আব্বাসি খলিফাদের রাজধানী। অবশ্য খলিফা মামুন-অর-রশীদের শাসনামলে কিছুদিনের জন্য খোরাসান রাজধানী ছিল। হালাকু খাঁ কর্তৃক বাগদাদ ধ্বংসের পূর্ব পর্যন্ত বাগদাদই ছিল মুসলিম বিশ্ব ও পৃথিবীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। এই নগরীকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে বিখ্যাত রূপকথার গল্প ‘আলফু লায়লাতি ওয়া লায়লা’ বা আলিফ-লায়লা(দ্য এরাবিয়ান নাইটস)। আব্বাসি খেলাফত মোট ৫২৫ বছর স্থায়ী ছিল। এই দীর্ঘ সময় ৩৬ জন খলিফা খেলাফতের মসনদে বসেন। আব্বাসি খলিফাদের মধ্যে খলিফা হারুন-অর-রশীদ আর মামুন-অর-রশীদ ছাড়া অন্য কেউই তেমন দ্যূতি ছড়াতে পারেননি।মঙ্গোল নেতা চেঙ্গিস খানের পৌত্র সেনাপতি হালাকু খাঁ কর্তৃক ৬৫৬ হিজরিতে বাগদাদ আক্রমণ করা হয় এবং খলিফা মুস্তাসিম বিল্লাহকে হত্যার মাধ্যমে খেলাফত ধ্বংস করা হয়।এরপর যদিও মিসরের মামলুক সুলতানেরা আব্বাসি খলিফার উত্তরাধিকারীদের খলিফা হিসেবে আশ্রয় দিয়েছিল, কিন্তু তাদের ক্ষমতা ইউরোপের পোপদের মতো নামে মাত্র ছিল।আল মনসুর যখন খেলাফতের রাজধানী হিসেবে বাগদাদকে নির্বাচন করেন তখন বাগদাদ ছোট একটি উপ-শহরের মতো ছিল। যদিও বাগদাদ পূর্বে ছিল বিশ্বখ্যাত ন্যায়পরায়ণ পারস্য শাসক নওশেরোয়ার রাজধানী।তখন শহরটি খুব জাঁকজমক ছিল কিন্তু পরবর্তীতকালে আস্তে আস্তে ছোট হতে থাকে।বাগদাদ ফারসি শব্দ। ‘বাগ’ অর্থ বাগান আর ‘দাদ’ অর্থ ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা।ঐতিহাসিকদের মতে, নওশেরোয়া শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একটি বাগান তৈরি করেন। যা পরবর্তীকালে বাগদাদ নামে প্রসিদ্ধি পায় এবং রাজধানী ঘোষণা করা হয়।দজলা ও ফুরাত (টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস) নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় বাগদাদ ছিল আরবের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অধিক সুজলা-সুফলা। আবহাওয়া ছিল নির্মল ও অনাবিল।সব অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য উপযোগী। চারপাশে ছিল গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রদেশ। যথা- খোরাসান,শাম,বসরা ও কুফা। ফলে বাগদাদ ছিল আরব-অনারব,প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের মিলনস্থল।১৪৫ হিজরীতে খলিফা আবু জাফর মনসুর বাগদাদ নগরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তখন তিনি কুরআনের এই আয়াত পাঠ করেন,‘নিশ্চয় সমগ্র পৃথিবীর অধিপতি মহান আল্লাহতায়ালা। তিনি তার বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী করে থাকেন।’শাম,মসুল,কুফা ও কোহিস্থান প্রভৃতি অঞ্চল থেকে বড় বড় স্থপতি ও কারিগরদের ডেকে আনা হয়। প্রথম শহরের নকশা ঠিক করা হয়। মাটির নিচে ভিত্তির প্রশস্থতা ৫০ হাত আর মাটির উপরে ২০ হাত প্রশস্থ প্রাচীর তৈরি করা হয়।পৃথিবীর মধ্যে বাগদাদ-ই একমাত্র গোলাকার শহর। শহরবেষ্টিত প্রাচীরে চার প্রদেশের নামে চারটি বাব (দরজা) রাখা হয়। বাবুল খোরাসান, বাবুশ শাম,বাবুল কুফা এবং বাবুল বসরা। এক দরজা থেকে অন্য দরজার দূরত্ব রাখা হয় এক মাইল।উল্লেখ্য, ইমাম আযম আবু হানিফা র.কে খলিফা মনসুর খেলাফতের কাযিউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) হওয়ার আহ্বান করেন।ইমাম সাহেব খলিফার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন ফলে খলিফা তার উপর মনক্ষুণ্ণ হন এবং শাস্তি হিসেবে তাকে নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে ইট গণনার কাজে নিযুক্ত করেন।ইমাম আবু হানিফা র. সানন্দে তা গ্রহণ করেন যে, পূর্বের চেয়ে এই দায়িত্ব অনেক হালকা।শহরের মধ্যে শাহী প্রাসাদ, জামে মসজিদ, কসরুজ জাহাব,কসরুল খুলদ প্রভৃতি দৃষ্টিনন্দন, শাঁনদার স্থাপত্য এবং সৌধ নির্মাণ করা হয়। ‘কুব্বাতুল খাজরা’ নামে ৮০ গজ উচ্চতার গম্বুজটি ছিল মনোমুগ্ধকর ও চিত্তাকর্ষক স্থাপনা।শহর নির্মাণ শেষ হলে এর নামকরণ করা হয় ‘মাদীনাতুস সালাম’। তবে এই নাম জনসাধারণের কাছে প্রসিদ্ধি পায়নি, শুধু সরকারি রেজিস্ট্রারে ব্যবহৃত হতে থাকে।মনসুরের পরবর্তী খলিফা আল মাহদি এসে বাগদাদের সম্প্রসারণ করেন। দজলা নদীর পূর্ব তীরে নতুন করে শহরকে ঢেলে সাজানো হয়। দজলা নদী বাগদাদ শহরের মধ্যে চলে আসে। ফলে শহরটি আরও চিত্তাকর্ষক ও নয়নাভিরাম হয়ে উঠে।সময়ের তালে তালে বাগদাদ বিস্ময়কর উন্নতি করতে থাকে। খলিফা,আমির-উমরা এবং ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন রুচির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন রূপ ফুটে উঠে।বাগদাদের সৌধগুলোর পরিচয় জানতে হলে শিবলী নুমানীর ‘ইমারাতুল ইসলাম’ পাঠ করা যেতে পারে।খলিফা হারুন অর রশীদের উজিরে আজম জাফর বারমেকি একটি সৌধ নির্মাণ করেন যার ব্যায় খলিফা মনসুরের সমগ্র নগরী নির্মাণের চেয়েও অধিক ছিল।বাগদাদের ‘দারুশ শাজারা’ প্রাসাদ সম্পর্কে ঐতিহাসিক গীবন লেখেন,খলিফা মুক্তার বিল্লাহ্ এই বিস্ময়কর প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। প্রাসাদের নলে পানির ফোয়ারা ছিল।তার মধ্যে স্বর্ণ নির্মিত বৃক্ষ ছিল, বৃক্ষের অনেকগুলো ডালপালা এবং তার শাখা-প্রশাখা ছিল।এই শাখা-প্রশাখায় মহামূল্যবান হিরা-জহরত,মনি-মুক্তা এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল যে, দেখলে মনে হতো এগুলো গাছের ফুল ও ফল। আর ডাল-পালায় রঙ-বেরঙের পাখি বসিয়ে রাখা হয়েছিল। যেগুলো হাওয়ায় দোল খেয়ে বিভিন্ন গানের সুমধুর সুর তুলত।আল্লামা শিবলী নুমানি বলেন, এককালে বাগদাদে ত্রিশ হাজার মসজিদ আর দশ হাজার হাম্মামখানা ছিল। এবং বাগদাদে ৮৬০ জন ডাক্তার প্র্যাকটিস করতেন। খলিফা হারুন-অর-রশীদের সময়ই নগরীর জনসংখ্যা দশ লাখের চেয়ে বেশি ছিল।খলিফা মনসুরের শাসনামল থেকেই বাগদাদে গ্রীক ও সুরয়ানি ভাষার অনুবাদ শুরু হয়। হারুন-অর-রশীদের সময় বাগদাদে ‘বায়তুল হিকমাহ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।খলিফা মামুন যিনি আব্বাসি খলিফাদের মধ্যে জ্ঞান,প্রজ্ঞা ও মননশীলতায় অদ্বিতীয় ছিলেন তার আমলে বাগদাদ জ্ঞান-বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধন করে।আব্বাসি আমলে বাগদাদের জ্ঞান চর্চার উদাহরণের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, উরায়েব নামে মামুনের একজন দাসী এক হাজার রাগ (সুর) আবিষ্কার করে। জ্ঞান-প্রতিভা,মার্জিত ভাষা, সাহিত্যরসে সে ছিল অনন্য।আরবের শেষ কবি ও ‘ইলম বদী’-এর প্রবর্তক খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ্ তার প্রতিভা ও যোগ্যতায় মুগ্ধ হয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেন।বাগদাদের এই বিশ্বয়কর উত্থান ও উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে খলিফা, উজির এবং শাসকবর্গ ভোগবাদী ও প্রবৃত্তিপরায়ণ হয়ে পড়ে। বাগদাদের জীবন ও চরিত্রে ভোগ-বিলাস,খেল-তামাশার বাজার গরম হয়ে উঠে।নাচ-গান, সুর ও সূরার মাহফিল জমজমাট হতে থাকে। সে সময়ে বাগদাদের শাহী চরিত্র জানতে হলে পড়তে হবে আবুল ফারাজ ইস্পাহানীর ‘কিতাবুল আগানী’ এবং জাহিযের ‘কিতাবুল হায়াওয়ান’।তবে তখনও বাগদাদের জনসাধারণে ধর্মীয় চেতনা ও আবেগ পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল।খতিবে বাগদাদী ‘তারিখ-ই-বাগদাদ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন,তখনও বাগদাদের ঘরে ঘরে, পাড়া-মহল্লায় এবং দরবার-সমাবেশে ‘ক্বালাল্লাহু’ আর ‘ক্বালা রসূলুল্লাহ্’ এই আলোচনাই চলত।লেখক: শিক্ষক, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

জানিয়ে দেবে স্মার্টফোন, আশপাশে কতজন করোনা রোগী?

জানিয়ে দেবে স্মার্টফোন, আশপাশে কতজন করোনা রোগী?


কন্টাক্ট ট্রেসিং কী?
কন্টাক্ট ট্রেসিং হচ্ছে একটি পদ্ধতি, যা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়। করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষেত্রে যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে তাদের স্বেচ্ছা আইসোলেশনে যেতে বলা হয়। এটা সাধারণত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ফোনের মাধ্যমে জানানো হয়। সঙ্গে একটা স্বয়ংক্রিয় লোকেশন ট্র্যাকিং মোবাইল অ্যাপও সংযুক্ত করা হয়। করোনাভাইরাসে শনাক্ত কারো সংস্পর্শে এলে অ্যাপটি তার সময় ও স্থান তুলে ধরে সতর্কবার্তা পাঠাবে। ফোনের শুধু জিপিএস ডাটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত রোগীদের ডাটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তারপর নিয়মিত ব্যবহারকারীকে বার্তা পাঠানো হবে এবং শুধু ব্যবহারকারীকেই পাঠানো হবে।

করোনাভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশগুলোতে এরই মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও অবস্থানগত ডাটা তাদের ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, অন্য কেউ পাবে না। তাই ব্যক্তির অগোচরে অ্যাপের অপারেটর তাদের ওপর নজরদারি করতে পারবে না। করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে কি না তা নির্ধারণের পুরো স্বাধীনতা ব্যক্তির থাকবে।

ত্বকের প্রশান্তি যেন অ্যালোভেরা

ত্বকের প্রশান্তি যেন অ্যালোভেরা


অ্যালোভেরা ও মুলতানি মাটি
এক চা চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে এক চা চামচ অ্যালোভেরা পাতার জেল এবং পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই পেস্টটি মুখের ত্বকে ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। এরপর শুকিয়ে আসলে কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এতে করে সহজেই ত্বকের নিস্প্রভভাব কেটে যাবে এবং উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। কারণ মুলতানি মাটি ও অ্যালোভেরা জেল ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করে বিষাক্ত উপাদানকে নিস্ক্রিয় করতে কাজ করে। যা সার্বিকভাবে ত্বকের উপকারে কাজ করে।

অ্যালোভেরা ও নিম পাতা
ত্বকের প্রদাহ কমানোর পাশাপাশি ত্বকের শুষ্কভাব দূর করতে এবং ত্বককে প্রাণবন্ত করতে নিম পাতা ও অ্যালোভেরা জেলের মিশ্রণ অতুলনীয়। এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা পাতার জেল ও এক চা চামচ নিম পাতা বাটা একসাথে মিশিয়ে মুখের ত্বকে ম্যাসাজ করতে হবে। এরপর ২০ মিনিট অপেক্ষা করে মুখের ত্বক ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

পিয়া বিপাশার নাটকই মূল ভরসা

পিয়া বিপাশার নাটকই মূল ভরসা


মডেল হিসেবে যাত্রা শুরু করে অভিনয়ে যুক্ত হয়েছেন নাটক দিয়ে। কিন্তু তার ইচ্ছে বড় পর্দায় প্রতিষ্ঠা পাওয়া। দেশীয় চলচ্চিত্রের বর্তমানের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার শাকিব খানের সাথেও একটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কিন্তু ভাগ্যসহায় হয়নি। তবে হাল ছাড়েননি তিনি। ২০ জুলাই থেকে ‘জিন’ নামের একটি চরচ্চিত্রে অভিনয় করবেন। এ ব্যাপারে পিয়া বিপাশা বলেন, আমি চাই ‘জিন’ সিনেমার মাধ্যমে নিজেকে নতুন করে চেনাতে। সে কারণে নিয়মিত পরিশ্রমও করে যাচ্ছি। দেখি কি হয়’।
এদিকে ভালোলাগা বড় পর্দা হলেও অভিনয়ের জন্য তাকে এখনো ভরসা করতে হয় নাটকের উপরই। সেই ধারাবাহিকতায় ঈদ উপলক্ষে একটি নাটকের কাজ শুর করেছেন তিনি। নাম ‘অপেক্ষা’। পরিচালনা করছেন মাকসুদুর রহমান বিশাল। বিপাশার বিপরীতে অভিনয় করবেন ইমন।
পিয়া বিপাশা বলেন,‘এর আগেও মাকসুদুর রহমান বিশালের নির্দেশনায় একটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। অপেক্ষা তার নির্দেশনায় আমার দ্বিতীয় কাজ। এই নাটকের গল্পটা অসাধারণ। গল্পের কারণেই নির্মাতা কক্সবাজারে নাটকটির দৃশ্যায়ণ করেছেন। বিশাল ভাই খুব চুপচাপ কিন্তু বিচক্ষণ একজন নির্মাতা। অনেক ধরে ধরে কাজ করেন তিনি। গুছিয়ে কাজ করেন বিধায়ই তার অপেক্ষা নাটকটি নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। আশাকরছি দর্শক কাজটি উপভোগ করবেন।’
এর আগে বিশালের নির্দেশনায় পিয়া ইমনের বিপরীতে ‘কাঁচ সমুদ্র’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন।
পিয়া বিপাশা বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত মডেল হিসেবে কাজ করছেন। সর্বশেষ তিনি ‘প্রাণ লাচ্ছি’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। আদিল হোসেন নোবেলর সাথে তিনি রানা মাসুদের নির্দেশনায় একটি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন। একজন মডেল হিসেবে এটাই ছিলো তার বড় প্রাপ্তি, বললেন পিয়া বিপাশা। কারণ একজন মডেল হিসেবেই মিডিয়াতে তার যাত্রা শুরু। পোলার আইসক্রিমের বিজ্ঞাপনে তিনি প্রথম মডেল হন। এরপর গ্রামীণ ফোন, ইস্পাহানি চা, প্যারাসুট নারিকেল তেল, ফ্রুটো ম্যাংগো জুস’সহ আরো অনেক জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করেন।
মাসুদুল হাসানের নির্দেশনায় তাহসানের বিপরীতে প্রথম পিয়া বিপাশা টিভি নাটকে অভিনয় করেন। নাটকের নাম ছিলো ‘দ্বিতীয় মাত্রা’। অপূব’র বিপরীতে ‘বিহ্বল ভালোবাসা’, নিশোর বিপরীতে ‘দূরত্ব বজায় রাখুন’, রিয়াজের বিপরীতে ‘প্রেমিকা’, চঞ্চল চৌধুরীর বিপরীতে ‘একটি পারিবারিক প্রেম কাহিনী’, জাহিদ হাসানের বিপীতে ‘আমি বিবাহ করিবোনা’সহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন।
আতিক জামানের ‘এনিভার্সারি’, শুভাশীষ রায়ের ‘কাটুস কুটুস’, ‘সঞ্জয় সমাদ্দারের ‘ঝরের পড়ে’, মোস্তফা কামাল রাজের ‘ডায়েরী’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন পিয়া।

কেমন যাবে আজকের দিনটি জেনে নিন রাশিফলে

 কেমন যাবে আজকের দিনটি  জেনে নিন রাশিফলে


ধনু (23 Nov – 21 Dec) প্রেমের ব্যাপারে আপনার মনের দরজায় কেউ আজ কড়া নাড়তে পারে। কোনো আইনি সমস্যার সমাধান হতে পারে। স্বাস্থ্য ভালো যাবে।মকর (22 Dec – 20 Jan) আপনি আজ যেকোনো কাজে কথা বলুন। সব কাজই আপনার জন্য সহজ হবে। আজ আপনি সব দিক থেকে আনন্দ পাবেন।কুম্ভ (22 Jan – 18 Feb) আজকের দিনটি আলাদা গুরুত্ব পাবে বলে মনে হয়। পরীক্ষিত বন্ধুদের ওপর আস্থা রাখুন। তারা সব সময় আপনার পাশে থাকবে।মীন (19 Feb – 20 Mar) বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আজ আপনি বাধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাবেন। কোনো সমস্যা আপনাকে আটকে রাখতে পারবে না।মেষ (21Mar – 20 Apr) ক্রয়-বিক্রয় বাণিজ্যে লাভ যোগ আছে। নতুন বিনিয়োগে সাফল্য পেতে পারেন। পড়াশোনায় মন বসাতে পারবেন। শরীর ভালো নাও যেতে পারে।বৃষ (21 Apr – 20 May) প্রেমপ্রীতির জন্য দিনটি শুভ সম্ভাবনাময়। ছোট ভাই-বোনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাবে। কোনো নতুন লোকে সঙ্গে বন্ধুত্ব হতে পারে। যাত্রা শুভ।মিথুন (22 May – 21 Jun) দিনটি মিশ্র সম্ভাবনাময়। অর্থপ্রাপ্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শরীর ভালো যাবে। কোনো ধরনের সুনাম হতে পারে। তাই ভালো কাজ করুন।কর্কট (22 Jun – 22 Jul) মানসিক শান্তি বজায় থাকবে। ধর্মীয় কাজে উৎসাহ পাবেন। পারিবারিক পরিবেশ ভালো থাকবে। যাত্রা ও যোগাযোগ শুভ।সিংহ (23 Jul – 23 Aug) আজ আপনার অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা আছে। ভেঙে যাওয়া প্রেমের সম্পর্ক জোড়া লাগতে পারে। দূরের যাত্রা শুভ।কন্যা (24 Aug – 23 Sep) বেকারদের কেউ কেউ নতুন কাজের সন্ধান পাবেন। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য দিনটি শুভ। শিক্ষা কিংবা গবেষণার জন্য সম্মাননা পেতে পারেন। নিশ্চিত থাকুন, আজ আপনার দিনটি ভালো।তুলা (24 Sep – 23 Oct) আজ আপনার সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রেমের আহ্বানে সাড়া দিতে হতে পারে। ব্যবসায় আগের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কোথাও ভ্রমণের জন্য দিনটি শুভ।বৃশ্চিক (24 Oct – 22 Nov) আজ আপনার একাধিক প্রেমের প্রস্তাব আপনাকে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে। দূরের যাত্রা শুভ। বেকারদের কারো কারো চাকরি হতে পারে।

কৃত্রিম জানালা দিয়ে আসবে সূর্যের আলো!.....

কৃত্রিম জানালা দিয়ে আসবে সূর্যের আলো!.....

দক্ষিণের জানালা দিয়ে সূর্যের আলো উঁকি দেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যদি বলি কৃত্রিম জানাল দিয়েই সূর্যের আলো প্রবেশ করবে” কি বিশ্বাস হচ্ছে না? তবে অবিশ্বাস্য হলেও তা করে দেখালো সানিফাইভ নামের একদল তরুণ।
সানিফাইভ টিমের সদস্যরা এমন একটি কৃত্রিম জানালা আবিষ্কার করেছে যা দিয়ে প্রাকৃতিক সূর্যের আলোর মতই সুবিধা পাওয়া যাবে। তাদের টিমের নামের আদলে এর নামকরণ করা হয়েছে সানিফাইভ উইন্ডো।
সানিফাইভ উইন্ডো দেখতে প্রায়ই ‘লাইট থ্যারাপি ল্যাম্প’ এর মত। মূলত যারা সিজনাল ডিসঅর্ডারে ভুগে তাদের জন্য যে বক্সের সাহায্যে কৃত্রিম ভাবে আলো ফেলা হয় তা লাইট থ্যারাপি ল্যাম্প বা বক্স। এই কৃত্রিম জানালার সাহায্যে প্রাকৃতিক আলোর যে রকম প্রভাবগুলো রয়েছে তা প্রোগ্রাম করা যাবে।
দিনের বেলায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সূর্যের আলো যেভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে যেমন: সূর্যোদয়, ভোর, সন্ধ্যা এবং সূর্যাস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে এই কৃত্রিম জানালায়। এটি ব্যবহারের জন্য যে অ্যাপ আছে তা দিয়ে রঙের তাপমাত্রা এবং উজ্জ্বলতা সেট করা যাবে।
স্যামসাং বলছে, ঘরের ভেতরে বা ত্বকের বার্ধক্যজনিত সমস্যায় কিংবা রোদে পুড়ে যাওয়ার কোনো ভয় ছাড়াই এই প্রোডাক্ট থেকে ভিটামিন-ডি পাওয়া যাবে।
টেক জায়ান্ট স্যামসাংয়ের আওতাধীন ‘ইন হাউস ইনকিউবেটর’ সি-ল্যাব সমর্থিত একটি স্টার্টআপ ফার্ম হচ্ছে সানিফাইভ।
তবে কবে নাগাদ সানিফাইভ উইন্ডো বাজারে আসবে কিংবা দাম কত হবে এবিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি।